Dhaka ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশনে রেল চুরি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি নেই

সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে রয়েছে একটি রেলওয়ে স্টেশন। ধারণা করা হয়, ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশন নামকরণ করা হয়েছে অত্র ইউনিয়নের নামানুসারে। বর্তমানে অব্যবহৃত ও অবহেলার চাদরে ঢেকে রয়েছে এটি। ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশন ব্রিটিশ আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল যা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের ট্রেনে রাজধানীতে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। বোনারপাড়া থেকে তিস্তামুখ ঘাট পর্যন্ত রেল যোগাযোগের মাঝের স্টেশনটির নামই ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশন। যাত্রীর পদভারে মুখরিত ছিল স্টেশনটি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় তিস্তামুখ ঘাটটি বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে অত্র রেলওয়ে স্টেশনটি যা প্রায় দীর্ঘ ২০ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ রেলওয়ে স্টেশনটি বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন কুচক্রী মহল সুযোগ পেয়েছে রেলের মালামাল চুরির। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় স্টেশনটির মেইন ইয়ার্ড সহ বিভিন্ন পয়েন্টে রেল উধাও। কে বা কারা করছে এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা দরকার বলে জানিয়েছে স্টেশনের আশেপাশে থাকা সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চাশোর্ধ্ব এক প্রবীন জানিয়েছে, “চোরের উৎপাদ বাড়ছে হামারে এই স্টেশনে। দেখা রেল গুল্যা চোখের সামনোত নাই হয়া যাচ্ছে। দেখার কেউ নাই বাবা।”

জানা যায়, গত সোমবার ২৯ শে জানুয়ারি এ স্টেশনের পাশের এক পুকুর থেকে আনুমানিক বেলা ১১ টায় দুই পিস রেল লাইনের খন্ড নজরে আসে স্থানীয়দের। যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও ১৫ ফুট প্রায়। পরে ঘটনার জানাজানি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে রেলগুলোকে উদ্ধার করেন অত্র স্টেশনের একমাত্র সিকিউরিটি সম্বিলিত কাজে নিয়োজিত থাকা টুকু মিয়া এবং পরবর্তীতে সে গুলো স্টেশনটির মূল প্লাটফর্মের ভেতরে গচ্ছিত রাখতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয়রা জোড় দাবি জানায় উদ্ধারকৃত রেলগুলোকে যেন সরকারের রেলের কোষাগারে সঠিক ভাবে জমা দেওয়া হয়। বিশাল এলাকা জুড়ে এই স্টেশনটিতে মাত্র একজন সিকিউরিটি দিয়ে দেখভাল করা আদৌ সম্ভব না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় লিটন মন্ডল।

এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা ইএন সাইদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে জানান, রেল উদ্ধারের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে বিশাল এরিয়া জুড়ে রেললাইন চুরি হওয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না।

স্থানীয় মোসলেম সরকার জানায়, রেলের গাছপালা সহ অনেক কিছু অতীতে চুরি হয়ে গেছে। সুমন মিয়া এই স্টেশনে রেল চালু হওয়ার জোর দাবি জানান।

দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণে রেললাইন থেকে রেল গায়েব হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনদের। অতীতেও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সহ টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে এ স্টেশনের বেহাল দশা তুলে ধরে। কিন্তু কেন নীরব ভুমিকায় রয়েছেন তাঁরা, কবে এর শেষ হবে প্রশ্ন জনমনে।

অবিরাম.কম এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
ট্যাগ :




বামনডাঙ্গায় বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রা বিরতির দাবিতে মানববন্ধন

x

ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশনে রেল চুরি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি নেই

প্রকাশ: ০৪:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে রয়েছে একটি রেলওয়ে স্টেশন। ধারণা করা হয়, ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশন নামকরণ করা হয়েছে অত্র ইউনিয়নের নামানুসারে। বর্তমানে অব্যবহৃত ও অবহেলার চাদরে ঢেকে রয়েছে এটি। ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশন ব্রিটিশ আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল যা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের ট্রেনে রাজধানীতে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। বোনারপাড়া থেকে তিস্তামুখ ঘাট পর্যন্ত রেল যোগাযোগের মাঝের স্টেশনটির নামই ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশন। যাত্রীর পদভারে মুখরিত ছিল স্টেশনটি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় তিস্তামুখ ঘাটটি বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে অত্র রেলওয়ে স্টেশনটি যা প্রায় দীর্ঘ ২০ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ রেলওয়ে স্টেশনটি বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন কুচক্রী মহল সুযোগ পেয়েছে রেলের মালামাল চুরির। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় স্টেশনটির মেইন ইয়ার্ড সহ বিভিন্ন পয়েন্টে রেল উধাও। কে বা কারা করছে এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা দরকার বলে জানিয়েছে স্টেশনের আশেপাশে থাকা সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চাশোর্ধ্ব এক প্রবীন জানিয়েছে, “চোরের উৎপাদ বাড়ছে হামারে এই স্টেশনে। দেখা রেল গুল্যা চোখের সামনোত নাই হয়া যাচ্ছে। দেখার কেউ নাই বাবা।”

জানা যায়, গত সোমবার ২৯ শে জানুয়ারি এ স্টেশনের পাশের এক পুকুর থেকে আনুমানিক বেলা ১১ টায় দুই পিস রেল লাইনের খন্ড নজরে আসে স্থানীয়দের। যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও ১৫ ফুট প্রায়। পরে ঘটনার জানাজানি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে রেলগুলোকে উদ্ধার করেন অত্র স্টেশনের একমাত্র সিকিউরিটি সম্বিলিত কাজে নিয়োজিত থাকা টুকু মিয়া এবং পরবর্তীতে সে গুলো স্টেশনটির মূল প্লাটফর্মের ভেতরে গচ্ছিত রাখতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয়রা জোড় দাবি জানায় উদ্ধারকৃত রেলগুলোকে যেন সরকারের রেলের কোষাগারে সঠিক ভাবে জমা দেওয়া হয়। বিশাল এলাকা জুড়ে এই স্টেশনটিতে মাত্র একজন সিকিউরিটি দিয়ে দেখভাল করা আদৌ সম্ভব না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় লিটন মন্ডল।

এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা ইএন সাইদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে জানান, রেল উদ্ধারের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে বিশাল এরিয়া জুড়ে রেললাইন চুরি হওয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না।

স্থানীয় মোসলেম সরকার জানায়, রেলের গাছপালা সহ অনেক কিছু অতীতে চুরি হয়ে গেছে। সুমন মিয়া এই স্টেশনে রেল চালু হওয়ার জোর দাবি জানান।

দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণে রেললাইন থেকে রেল গায়েব হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনদের। অতীতেও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সহ টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে এ স্টেশনের বেহাল দশা তুলে ধরে। কিন্তু কেন নীরব ভুমিকায় রয়েছেন তাঁরা, কবে এর শেষ হবে প্রশ্ন জনমনে।

অবিরাম.কম এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন