Dhaka ০৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




বামনডাঙ্গায় কিশোরীর আত্মহত্যা; অভিযুক্ত প্রেমিকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

  • মোঃ ওমর ফারুক
  • প্রকাশ: ০৭:১৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ১২১ Time View

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামে প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে আত্নহত্যা করেছে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী । প্রতারক প্রেমিক রায়হান কবীর মজিদের বিচারের দাবিতে  ২৪ ফেব্রুয়ারী মানববন্ধন করেছে ওই ছাত্রীর সহপাঠি,আন্তীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও এলাকার সচেতন মানুষজন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নগর কাঠগড়া মনমথ গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে কাটগড়া দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীয় ছাত্রী শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া (১৬) এর সাথে বামনডাঙ্গা রেল কলোনি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে রায়হান কবীর মজিদ (১৭) এর বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো। প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে রায়হান কবীর প্রেমিকা ছোয়ার নিকট হতে প্রতারণা করে বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতো । সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বখাটে রায়হান কবীর তাদের আপত্তিকর,ঘনিষ্ট কিছু ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে । পরবর্তীতে ওই সব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ দিতো।

রায়হান কবীরের সাথে ছোয়ার আপত্তিকর ছবি, প্রেম, টাকা পয়সা নেয়ার ঘটনা ছোয়ার কোচিং সেন্টার ও স্কুলের সহপাঠিদের মধ্যে জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হতে থাকে । ফলে ক্ষোভে ও লোক লজ্জার ভয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া।

উল্লেখ্য যে, আত্নহত্যার পুর্বে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া সুইসাইট নোটে লিখে যায়,এই পৃথিবীর নরপশু আমাকে বাঁচতে দেয়নি…কাফনের কাপড় পড়ায় ছাড়ছে।

এদিকে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়ার আত্নহত্যার কারণ হিসেবে প্রেমিক রায়হান কবীর মজিদের বিচারের দাবিতে ২৪ ফেব্রুয়ারী মানববন্ধন করেছে ওই ছাত্রীর সহপাঠি,আন্তীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও এলাকার সচেতন মানুষজন।

মানবন্ধনে নিহত শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়ার পিতা শাহাজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রায়হান কবীর তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সময়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। টাকা না দেয়ার কারণে মেয়েকে হত্যার হুমকিও দিত বখাটে রায়হান কবীর। পরবর্তীতে আরো টাকার জন্য চাপ দেয় রায়হান। মেয়ের কোচিং সেন্টার ও স্কুলে তার সহপাঠীদের মধ্যে এটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে-লজ্জায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মানববন্ধনে শাহাজান মিয়া তার মেয়ের হত্যার বিচারের দাবি জানান।

নিহত ছোয়ার সহপাঠীরা বলেন, রায়হান কবীর মজিদের সাথে ছোয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময়ে সে চাপ প্রয়োগ করে টাকা নিতো। সর্বশেষ সে টাকা ও বিভিন্ন সময় তাদের দুজনের ঘনিষ্ঠ কিছু সময় কাটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিবে মর্মে চাপ দিত। এছাড়াও বখাটে রায়হান কবীর মজিদ বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক ফেইক আইডি খুলে মেয়েকে ও তার সহপাঠীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো।

সুন্দরগঞ্জ থানা (ওসি) তদন্ত মিলন চ্যাটার্জী  জানান, একটি ইউ ডি মামলা হয়েছে, গত রবিবার নিহতের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইননানুগক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :




বামনডাঙ্গায় বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রা বিরতির দাবিতে মানববন্ধন

x

বামনডাঙ্গায় কিশোরীর আত্মহত্যা; অভিযুক্ত প্রেমিকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৭:১৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামে প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে আত্নহত্যা করেছে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী । প্রতারক প্রেমিক রায়হান কবীর মজিদের বিচারের দাবিতে  ২৪ ফেব্রুয়ারী মানববন্ধন করেছে ওই ছাত্রীর সহপাঠি,আন্তীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও এলাকার সচেতন মানুষজন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নগর কাঠগড়া মনমথ গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে কাটগড়া দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীয় ছাত্রী শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া (১৬) এর সাথে বামনডাঙ্গা রেল কলোনি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে রায়হান কবীর মজিদ (১৭) এর বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো। প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে রায়হান কবীর প্রেমিকা ছোয়ার নিকট হতে প্রতারণা করে বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতো । সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বখাটে রায়হান কবীর তাদের আপত্তিকর,ঘনিষ্ট কিছু ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে । পরবর্তীতে ওই সব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ দিতো।

রায়হান কবীরের সাথে ছোয়ার আপত্তিকর ছবি, প্রেম, টাকা পয়সা নেয়ার ঘটনা ছোয়ার কোচিং সেন্টার ও স্কুলের সহপাঠিদের মধ্যে জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হতে থাকে । ফলে ক্ষোভে ও লোক লজ্জার ভয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া।

উল্লেখ্য যে, আত্নহত্যার পুর্বে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়া সুইসাইট নোটে লিখে যায়,এই পৃথিবীর নরপশু আমাকে বাঁচতে দেয়নি…কাফনের কাপড় পড়ায় ছাড়ছে।

এদিকে শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়ার আত্নহত্যার কারণ হিসেবে প্রেমিক রায়হান কবীর মজিদের বিচারের দাবিতে ২৪ ফেব্রুয়ারী মানববন্ধন করেছে ওই ছাত্রীর সহপাঠি,আন্তীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও এলাকার সচেতন মানুষজন।

মানবন্ধনে নিহত শাহারিয়ার জান্নাত ছোয়ার পিতা শাহাজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রায়হান কবীর তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সময়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। টাকা না দেয়ার কারণে মেয়েকে হত্যার হুমকিও দিত বখাটে রায়হান কবীর। পরবর্তীতে আরো টাকার জন্য চাপ দেয় রায়হান। মেয়ের কোচিং সেন্টার ও স্কুলে তার সহপাঠীদের মধ্যে এটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে-লজ্জায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মানববন্ধনে শাহাজান মিয়া তার মেয়ের হত্যার বিচারের দাবি জানান।

নিহত ছোয়ার সহপাঠীরা বলেন, রায়হান কবীর মজিদের সাথে ছোয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময়ে সে চাপ প্রয়োগ করে টাকা নিতো। সর্বশেষ সে টাকা ও বিভিন্ন সময় তাদের দুজনের ঘনিষ্ঠ কিছু সময় কাটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিবে মর্মে চাপ দিত। এছাড়াও বখাটে রায়হান কবীর মজিদ বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক ফেইক আইডি খুলে মেয়েকে ও তার সহপাঠীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো।

সুন্দরগঞ্জ থানা (ওসি) তদন্ত মিলন চ্যাটার্জী  জানান, একটি ইউ ডি মামলা হয়েছে, গত রবিবার নিহতের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইননানুগক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।